জাতীয়

পুলিশে করোনাভাইরাসে মৃত্যু কমেছে: আইজিপি

রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের শয্যা আড়াইশ থেকে পাঁচশ করাসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, কোভিড-১৯ আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের দ্রুত ও সময়মতো চিকিৎসার বন্দোবস্ত করার কারণে বাহিনীতে এই রোগে মৃত্যুর হার কমেছে।

এক্সক্লুসিভ নিউজ ডেস্ক:  রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা আঞ্চলিক পুলিশ লাইন্সের নতুন ব্যারাক ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

তিনি  বলেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মারা যাচ্ছে মাত্র দশমিক ৫%, যেখানে জাতীয় পর্যায়ে মৃত্যুর হার ১ .৩ ভাগ।

আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে আইজিপি বেনজীর বলেন, “শুধু ঢাকায় নয়, ঢাকার বাইরে বিভাগীয় হাসপাতালগুলোকে আধুনিকায়ন করার ফলে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং মৃত্যুর হার কমছে।”

‘মাত্র দুই সপ্তাহে’ রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালকে ২৫০ বেড থেকে ৫০০ বেডের কোভিড-১৯ হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালও ভাড়া করা হয়েছে; স্কুল-কলেজ ও হোটেল ভাড়া করে আইসোলেশন কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে।

বেনজীর আহমেদ বলেন, “চার সপ্তাহের জায়গায় মাত্র ১২ দিনে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতলে পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।”

কোভিড-১৯ সংক্রমণ ‘শূন্যের কোটায়’ নামিয়ে আনার লক্ষ্যে পুলিশ কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, “জাতীয়ভাবেও এ হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার জন্য সবাইকে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে এ দুর্যোগ মোকাবেলা করতে পারব।”

ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে নিযুক্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তাদের দেশের প্যানডেমিক পুলিশিং গাইডলাইন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশের গাইডলাইন সংগ্রহ করে বাংলাদেশ পুলিশের উপযোগী ‘প্যানডেমিক পুলিশিং স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি)’ তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান বেনজীর আহমেদ।

তিনি বলেন, “এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রী গঠিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল এবং চীনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল অন্য হাসপাতালের চেয়ে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের চিকিৎসা প্রটোকল ও ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।”

‘শুরুতে না থাকলেও’ বর্তমানে পুলিশের ২ লাখ সদস্যের প্রত্যেকের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী রয়েছে বলে জানানো হয় অনুষ্ঠানে।

মাদকমুক্ত পুলিশ প্রশাসন গড়ে তুলতে কঠোর অবস্থান জানিয়ে পুলিশ প্রধান বলেন, “পুলিশের কোনো সদস্য ড্রাগ সেবন করবে না, ড্রাগের সাথে কোনোভাবেই সম্পর্কযুক্ত থাকবে না।

“কোনো ব্যক্তি ক্যান্সার আক্রান্ত হলে আক্রান্ত অংশ যেভাবে অপসারণ করা হয় পুলিশের কোনো সদস্য যদি ড্রাগের সাথে সম্পর্কযুক্ত থাকে তাহলে তাকেও নির্দয়ভাবে অপসারণ করা হবে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে ‘উন্নত ধনী দেশে’ পরিণত করার ‘স্বপ্নের’ সাথে সমন্বয় রেখে উন্নত দেশের উপযোগী পুলিশ বাহিনী গড়তে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিবর্তন আনার কাজ চলছে বলেও জানান আইজিপি বেনজীর আহমেদ।

“উন্নত দেশের পুলিশ হতে হলে পুলিশের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে হবে বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে। পুলিশকে মাদকমুক্ত হতে হবে, পুলিশে থেকে মানুষের কাছ থেকে অবৈধ সু‌বিধা নেওয়া যাবে না। মানুষের প্রতি নিষ্ঠুরতা নয়, মানবিক আচরণ করতে হবে।”

আইজিপি বলেন, পুলিশ সদস্যদের বসবাসের ঘনত্ব কমিয়ে তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক আবাসনের ব্যবস্থা করার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শুরুতে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ফ্রন্টলাইনার চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক, পুলিশসহ সবার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান বেনজীর আহমেদ। পুলিশ লাইন্স চত্বরে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারাও রোপণ করেন তিনি।

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলামের পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত আইজিপি মইনুর রহমান চৌধুরী, আবুল খায়ের গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবু সাঈদ চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান, অতিরিক্ত আইজিপিসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এমন আরও সংবাদ

Back to top button
Close
Close