এক্সক্লুসিভ নিউজ

আজ থেকে সরকারের কাজ শুধুই ‘রুটিন ওয়ার্ক’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন থেকে সরকারের কাজ শুধুই ‘রুটিন ওয়ার্ক’। কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে আগামী রবিবার থেকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে নিয়ম রক্ষার তাগিদে। নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত যেমন নিতে পারবে না, তেমনই নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারও করতে পারবে না।

এ প্রসঙ্গে সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনকে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করে, এমন কোনো কাজ করতে পারবে না সরকার। তবে সরকারের সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে, এটিও ঠিক নয়।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সরকার বাজেট, বেতন, চলমান প্রকল্প বা চুক্তি এসব কার্যক্রম চালাতে পারবে। তবে প্রশাসনে পদায়ন বা কোনো এলাকায় অর্থ বরাদ্দ, বণ্টন করতে পারবে না। কিন্তু ব্যাংকিং বা অন্যান্য আইন প্রণয়ন, চলমান প্রকল্প এবং সরকারি কার্যক্রম সাধারণ নিয়মেই চলবে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও সবকিছু বন্ধ ছিল না। তাই তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সরকার স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।

একইভাবে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, তফসিল ঘোষণার পরও সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ নিয়মিত সরকার হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবে।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সভা শেষে রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর অযৌক্তিক দাবি-দাওয়া নিয়ে রাস্তায় নামলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। তিনি বলেন, সরকার এখন নির্বাচনের মুডে রয়েছে এবং একটি ভালো নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন এবং দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে যান। প্রথমে কোটা সংস্কারের দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে তা সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে পরিষত হয়, যা পরে এটি ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান বা জুলাই বিপ্লব নামে পরিচিতি পায়।

শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। এরপর ৮ আগস্ট বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার শপথ গ্রহণ করে।

এমন আরও সংবাদ

Back to top button