রংবেরঙ

তো বিয়ে করছ না কেন?

তো বিয়ে করছ না কেন?

অবিবাহিত যারা আছেন, সকাল-বিকেল, রাত-দিন, উঠতে-বসতে তাদের এই অমানবিক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ কিন্তু জাতে ভয়ংকর এই প্রশ্নের জন্য অনেক অনুষ্ঠান পর্যন্ত এড়িয়ে চলেন। পাঁচ বছর ধরে এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে চলা মো. সাখাওয়াত হোসেন ফাঁস করে দিচ্ছেন কিছু টিপস।

প্রশ্নকারীর মোটিভ খেয়াল করুন: প্রথমত সবাই আপনাকে বিরক্ত করা কিংবা উপহাস করার জন্য এই প্রশ্ন করে না। তাদের মোটিভ আগে দেখুন। প্রশ্নকারীর চোখের দিকে তাকান। চোখ দেখলেই বোঝা যাবে তারা আসলে কী চাইছে। যদি কেউ সানগ্লাস পরে তবে তাকে আগে চশমা খুলে ফেলতে বলুন। রোমান্টিকভাবে বলে দিন, ‘কারও চোখে চোখ না রেখে আপনি কথা বলতে পারেন না।’

বল প্রশ্নকারীর কোর্টে ঠেলে দিন: প্রশ্ন করতে ভালোবাসে সবাই। কিন্তু খাতা কাটার দায়িত্ব নিতে চায় খুব কম মানুষই। সুতরাং যে প্রশ্ন করেছে তাকে নিয়ে একপাশে বসে পড়ুন। মানে প্রশ্ন করার সঙ্গে সঙ্গেই বলুন, ‘আসুন আমরা বসে কথা বলি।’ এতে সে প্রথমেই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাবে। এরপর যদি সে আপনার সঙ্গে বসে, আপনি কেন বিয়ে করতে পারছেন না এ ধরনের নানা কারণ দেখিয়ে তাকে সাহায্য করতে বলুন। বলুন যে, আপনার খুব ইচ্ছা পুরো বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম যেন আপনার বিয়েতে থাকে। কিন্তু আপনি তাদের আনতে পারছেন না। প্রশ্নকারীকে বলুন আপনাকে সাহায্য করতে। এ ছাড়া আপনার খুব ইচ্ছা হনোলুলু কিংবা আফ্রিকান জঙ্গলে হানিমুনে যাওয়ার। কিন্তু ম্যানেজ করতে পারছেন না। প্রশ্নকারীকে সাহায্য করতে বলুন। খুব বিরক্তিকর কাউকে একটা মোক্ষম অস্ত্র ঝেড়ে দিন। ‘টাকার জন্য বিয়েটা আটকে আছে, কিছু টাকা ধার দিতে পারবে নাকি?’ জীবনেও আপনাকে আর তিনি বিয়ের কথা জিজ্ঞাসা করবে না লিখে রাখুন। বিফলে মূল্য ফেরত।

ধার নিন বিখ্যাত ব্যক্তিদের উক্তি: বিখ্যাত অভিনেতা নোয়েল কাওয়ার্ড বলেছেন, ‘বিয়ের কথা আমি মাঝে মাঝেই ভেবেছি। তারপর আবার ভেবেছি!’
বিখ্যাত টক শো উপস্থাপক জনি কার্সন বলেছেন, ‘বিবাহিত পুরুষ অবিবাহিত পুরুষদের চেয়ে বেশিদিন বেঁচে থাকে এটা ঠিক। তবে বিবাহিত পুরুষ সব সময় কামনা করে দ্রুত মারা যাওয়ার।’
‘সুখী দম্পতি হওয়ার গোপন রহস্য আজও গোপনই রয়ে গেছে!’ বলেছেন কমেডিয়ান হেনি ইয়ংম্যান।
‘সবাইকে বিয়ে করতে হয় না!’ বলেছে কুখ্যাত লেখক মো. সাখাওয়াত হোসেন।
এ ধরনের কিছু বাণী মুখস্থ করে রাখুন। ঝোপ বুঝে কোপ মেরে কল্লা ফেলে দিন।

গরু (গুরু) গম্ভীর আলোচনা ফেঁদে বসুন: প্রশ্নকারী যখনই আপনাকে বলবে, তো বিয়ে করছ না কেন?
খুব ভাব নিয়ে শুরু করুন, ‘বিয়ে তো করতেই চাই। কিন্তু দেশের এই অস্থিতিশীল অবস্থায় কীভাবে বিয়ে করি?’
এরপর টেনে আনুন বিশ্বের জলবায়ুর অবস্থা, জলবায়ু নিয়ে সম্মেলন, সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশের বর্ণনা, রোহিঙ্গা সংকট, এই ব্যাপারে অন্যান্য দেশের মন্তব্য, দেশের মাথাপিছু আয়, জিডিপি, ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থা এসব আলোচনার শেষে বলুন, ‘এখন বলুন এ অবস্থায় বিয়ে কীভাবে করি?’
আমার এক অবিবাহিত বন্ধু এসব বলার জন্য সাধারণ জ্ঞানের প্রিপারেশন নিতে নিতে এবার ৩৮তম বিসিএসে প্রিলিতে চান্স পেয়ে গেছে। সুতরাং এক থাপ্পড়ে দুই মশা মারার সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত হবে না কিছুতেই।

আমার এক বন্ধুর আংকেলের মেয়ের নাম নীলা। সেই আংকেল আমার বন্ধুকে একদিন জিজ্ঞাসা করে, ‘কী ব্যাপার তুমি বিয়ে করছ না কেন?’
‘আসলে আংকেল নীলার মতো কাউকে পাচ্ছি না!’ বন্ধুর জবাব।
সেই আংকেল, আংকেলের স্ত্রী আর নীলা আজ অনেকদিন আমার বন্ধুর বাসায় আর আসে না।

সেরেই ফেলুন: সব অস্ত্র যদি ফেল করে তাহলে আর কী করবেন? বিয়েটা সেরেই ফেলুন। আসলে বিয়ে জিনিসটা কিন্তু অত খারাপ না। এক ভদ্রলোক বলেছিল, ‘আমি আর আমার স্ত্রী ২৫ বছর সুখী ছিলাম। এরপর আমাদের দেখা হলো!’

এমন আরও সংবাদ

Back to top button