এক্সক্লুসিভ স্বাস্থ্য বুলেটিন

বাড়ছে মরণরোগ ক্যানসারের ঝুঁকি, জেনে নিন সুস্থ থাকার উপায়

বিশ্বজুড়ে মানব মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে ক্যানসার। বাংলাদেশে ফুসফুস, খাদ্যনালি, ঠোঁট-মুখগহ্বর, স্তন, সার্ভিক্স জরায়ু, পাকস্থলী, হাইপোফ্যারিংক্স বা নিম্ন গলার অংশ, অরোফ্যারিংক্স বা গলার মাঝের অংশ, গলব্লাডার, স্বরযন্ত্র, নন-হজকিন লিম্ফোমা, লিভার, ডিম্বাশয়, লিউকেমিয়া, কোলন, মলদ্বার, প্রস্টেট, মূত্রাশয়, থাইরয়েড, কিডনি, অগ্ন্যাশয়, মস্তিষ্কসহ অন্তত ৩৫টি ধরনের ক্যানসার বিদ্যমান।

ক্যানসার রোগ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে ওঠার চাবিকাঠি এখনও অধরা। তাই ক্যানসারের আতঙ্কও সহজেই জাঁকিয়ে বসে। ক্যানসার কোনও নির্দিষ্ট কারণে হয় না। চিকিৎসকদের ভাষায় এটি একটি ‘মাল্টি ফ্যাকেটেরিয়াল ডিজিজ’। মূলত তেল-মশলাদার খাবার, অতিরিক্ত বাইরের খাবার, অতিরিক্ত চিনি ও ময়দা খেলে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। শরীরের কোনও কোষের অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধিই ক্যানসারের অন্যতম কারণ।

তবে শরীরের যে কোনও অঙ্গে সামান্য সংক্রমণই পরবর্তী কালে বদলে যেতে পারে মারণরোগে। লিভারের রোগ কখন যে লিভার ক্যানসারের রূপ নেবে, তা আগে থেকে আঁচ করা যায় না অনেক সময়েই। মুখগহ্বর থেকে পাকস্থলী, যকৃৎ থেকে জরায়ু— যে কোনও অঙ্গেই মারণরোগ বাসা বাঁধার কারণ কোনও না কোনও ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়া। সাধারণ রোগজীবাণুর থেকে এদের চরিত্র আলাদা। অথবা বলা যেতে পারে মানুষের শরীরে বাসা বাঁধতে বাঁধতে এরা তাদের চরিত্র, থুড়ি, জিনের সাজসজ্জা বদলে ফেলে আরও ভয়ানক হয়ে উঠেছে। এই ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়ারা খুব দ্রুত বিভাজিত হতে পারে। মানুষের শরীরে ঢুকলে দেহ কোষের অনিয়মিত বিভাজন ঘটিয়ে তারা টিউমার কোষ তৈরি করে ফেলে, যা ক্যানসারের কারণ হয়ে ওঠে।

সব প্রাণীর শরীর অসংখ্য ক্ষুদ্র কোষ দিয়ে তৈরি। এসব কোষ নির্দিষ্ট সময় পরপর মারা যায় এবং নতুন কোষ জন্ম নিয়ে পুরনো বা মৃত কোষগুলোর জায়গা দখল করে। নতুন কোষ জন্ম নেয়ার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রিতভাবে এবং নিয়মমতো বিভাজিত হয়। কিন্তু দেহের কোষগুলো যখন কোনো কারণে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে তখনই ত্বকের নিচে মাংসের দলা অথবা চাকা দেখা যায়, যাকে টিউমার বলে। টিউমার দুই প্রকার, বিনাইন টিউমার ও ম্যালিগন্যান্ট টিউমার। এ দুই প্রকারের টিউমারের মধ্যে ম্যালিগন্যান্ট টিউমারকে ক্যানসার বলে। এখন পর্যন্ত মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে এ রকম একশরও বেশি ধরনের ক্যানসার রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী বিশ্বে প্রতিবছর ৮২ লাখ মানুষ মারা যায় ক্যানসারে। বিশেষ করে সাড়ে ১০ কোটি নারী ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হন। এ মারণব্যধিতে আক্রান্তদের বেশিরভাগই বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের নাগরিক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে সচেতনতা ও শিক্ষার অভাব এবং অর্থনৈতিক অবস্থাকে বাংলাদেশে ক্যানসার ও এ রোগে মৃত্যুর হার বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

ক্যানসারের চিকিৎসা খুবই ব্যবয়বহুল, যা সময়মত না করালে মৃত্যু ঘনিয়ে আসতে পারে। বাংলাদেশের মতো একটি স্বল্পোন্নত দেশে ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই। দুধরনের সচেতনতাই অবলম্বন করা জরুরি। প্রথমত প্রতিরোধের জন্য হতে হবে স্বাস্থ্য সচেতন, দ্বিতীয়ত লক্ষণগুলো জানতে হবে, যাতে করে প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা পড়ে রোগটি।

চিকিৎসকরা মনে করেন, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসার তাড়াতাড়ি ধরা পড়ে এবং সেক্ষেত্রে চিকিৎসা সহজ হয়। ক্যানসারের লক্ষণগুলোর ওপর নির্ভর করে এটি কোথায়, কতটা বড় এবং এর কাছাকাছি কোনো অঙ্গ বা টিস্যুকে কতটা প্রভাবিত করে।

ক্যানসার যখন ছড়িয়ে পড়ে তখন শরীরের বিভিন্ন স্থানে লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এজন্য এটা কী ধরনের রোগ, কী কী কারণে ঝুঁকি বাড়ে, প্রতিরোধের জন্য কী কী করণীয় সে বিষয়ে সচেতনতা জরুরি বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।

জেনে নিন কোন কোন ক্যানসার বেশি কাবু করে। কোন উপসর্গ দেখলেই বা সতর্ক হবেন?

স্তন ক্যানসার

এ দেশে স্তন ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ক্রমশ। তিরিশ পেরোনো মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যানসারের হানা যথেষ্ট আশঙ্কাজনক হয়ে উঠছে। স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ের চাবিটি থাকে আক্রান্তের কাছেই। শারীরিক কোনও পরিবর্তন চোখে পড়লেই তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন। প্রথম থেকেই এই অসুখ নিয়ে সচেতন থাকতে হবে। স্তনে মাংসপিণ্ড দেখা দেওয়া, স্তনবৃন্তের আশপাশে র‌্যাশ ও চুলকানি, স্তনের সঙ্গে ঘাড় ও কাঁধে ব্যাথা, স্তনের আকার বদলে যাওয়া এই ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ।

মুখের ক্যানসার

মুখের ক্যানসার চেষ্টা করলেই তা রোখা সম্ভব। গুটখা, খৈনি, পানমশলা খাওয়ার অভ্যাসই ডেকে আনে মারণ এই রোগের ঝুঁকি। জেনে-বুঝেও এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন না অনেকেই। এ ছাড়াও মদ্যপানের কারণে ও হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি)-এর সংক্রমণেও এই রোগ বাসা বাঁধে শরীরে। মুখের ভিতর সাদা বা লালচে ছোপ, মুখের ভিতরে কোনও ব্যথাহীন ফোলা অংশ, দীর্ঘ দিন ধরে জিভ নাড়াতে ও কথা বলতে অসুবিধে হওয়া কিন্তু মুখের ক্যানসারের লক্ষণ।

জরায়ুমুখ ক্যানসার

দেশ জুড়ে মহিলাদের মধ্যে যত ধরনের ক্যানসার দেখা যায়, তার মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে সারভাইকাল ক্যানসার বা জরায়ুমুখ ক্যানসার রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। প্রতি বছর গড়ে এক লক্ষেরও বেশি নারী এই ক্যানসারে আক্রান্ত হন। এইচপিভি-র হানাতে এই মারণরোগ বাসা বাঁধে শরীরে। তবে এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করা ছাড়াও জরায়ুমুখ ক্যানসারের আর একটি প্রধান কারণ অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক। ঋতুচক্রের নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ, যৌনমিলনের সময়ে প্রবল যন্ত্রণার সঙ্গে রক্তপাত, তলপেট, কোমরে দীর্ঘ দিন ব্যথা এই ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গ।

গ্যাস্ট্রিক ক্যানসার

এই ক্যানসার এমন একটি রোগ, যার সঙ্কেত প্রাথমিক পর্যায়ে বুঝতে পারা সত্যিই কঠিন। সাধারণ গ্যাসের সমস্যা না কি ক্যানসার, বুঝে উঠতেই অনেকটা সময় চলে যায়। একটানা হজমের গোলমাল, বমি বমি ভাব, বুকে জ্বালা করা, খিদে কমে যাওয়া, মলের সঙ্গে রক্তপাত গ্যাস্ট্রিক ক্যানসারের প্রধান উপসর্গ।

ফুসফুসে ক্যানসার

ফুসফুসে ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যার মধ্যে ধূমপান তার বড় কারণ। দীর্ঘ দিন ধরে শুকনো কাশি, স্বরভঙ্গ, কাশির সঙ্গে রক্তপাত, অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠা এই ক্যানসারের লক্ষণ। উপসর্গ দেখলেই সতর্ক হন।

মস্তিষ্কের ক্যানসার

মাথাব্যথা, সকালে বমি হওয়া, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, চোখ ট্যারা হয়ে যাওয়া, কানে সর্ব ক্ষণ ভোঁ ভোঁ আওয়াজ হওয়া— মস্তিষ্কের ক্যানসারের প্রধাণ লক্ষণ। আরও গুরুতর সমস্যা হলে অঙ্গ বিকলও হয়ে যেতে পারে।

থাইরয়েড ক্যানসার

চোখ ঠেলে বেরিয়ে আসা, বুক ধড়ফড়ানি বাড়া, ওজন অনেকটা কমে যাওয়া থাইরয়েড গ্রন্থিতে ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। ঘন ঘন বমি হওয়া, মাঝেমাঝেই সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলার মতো সমস্যায় ভোগেন রোগী। এ ক্ষেত্রে ঘাড়ের কাছে শক্ত মাংসপিণ্ডের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।

ইনসুলিন প্রোডিউসিং টিউমর

প্যানক্রিয়াসে তৈরি হয় ইনসুলিন। কিন্তু কোনও রোগীর হঠাৎ অনেকটা সুগারের পরিমাণ কমে যাওয়ার নেপথ্যে এই টিউমর থাকতে পারে। যদি ওষুধ ও ইনসুলিন পর্যাপ্ত মাত্রায় প্রয়োগ করার পরেও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তখন এই টিউমরের সম্ভাবনা খোঁজ করা হয়।

রক্তের ক্যানসার

রক্তের ক্যানসারগুলিরও প্রাথমিক পর্যায়ে কোনও লক্ষণ থাকে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমতে থাকা, বার বার জ্বর, সংক্রমণ, শরীরজুড়ে কালশিটে পড়া— এগুলি রক্তের ক্যানসারের লক্ষণ।

হিস্টিয়োসাইটোসিস

এটি শিশুদের একটি বিরল প্রজাতির রক্তের ক্যানসার। হঠাৎ মাথার কোনও একটা জায়গা ফুলে ওঠা এর প্রধান লক্ষণ।

অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির ক্যানসার

এই গ্রন্থি থেকে তৈরি হয় অ্যাড্রিনোকর্টিকল হরমোন। ক্যানসারের সম্ভাবনা থাকলে এই হরমোনের উৎপাদন বেড়ে যায়। তার ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায়। অনেকের দাড়ি-গোঁফ দেখা যায়।

লক্ষণ ও প্রতিরোধ

পেটে ব্যথা অথবা কাশি- অনেকদিন চিকিৎসা করিয়েও সেরে উঠছেনা। তাহলে ধরে নিতে হবে এটা ক্যানসারের উপসর্গ হতে পারে। ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা এনএইচএসের কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, এরকম উপসর্গ থাকলে অনতিবিলম্বে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

তারা বলছেন, এসব উপসর্গ উপেক্ষা করে চিকিৎসা গ্রহণে বিলম্ব কোর কারণে হাজার হাজার মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, ক্যানসারের এসব লক্ষণ বা উপসর্গ সম্পর্কে লোকজনের আরও বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

চিকিৎসকরা বলছেন, উপসর্গ যদি ছোটখাটোও হয়, তার পরেও সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কেননা কিছু কিছু ক্যানসার শনাক্ত করা কঠিন এবং অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার পরেই এবিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়। কিন্তু এর মধ্যেই অনেক সময় পার হয়ে যায়। ক্যানসারের উপসর্গ বা লক্ষণের ব্যাপারে এখন সতর্ক হওয়া আরও বেশি জরুরি।

কিছু কিছু উপসর্গ সাধারণত সব ক্যানসারের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। বিশেষ করে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার পর এসব উপসর্গ মোটামুটি একই রকমের হয়ে থাকে। এসবের মধ্যে রয়েছে কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া, অনেকদিন ধরে খাওয়ায় অরুচি ইত্যাদি। তার পর সব পেটের ক্যানসারের বেলায় একটা সাধারণ উপসর্গ হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে পেটে ব্যথা।

চিকিৎসকের মতে, কিছু কিছু উপসর্গ আছে একবার দেখা দিলেই গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। যেমন প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া যা ব্লাডার ক্যানসারের একটি লক্ষণ যা কখনোই উপেক্ষা করা উচিত নয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গলা, পাকস্থলি, বাওল, প্যাংক্রিয়াটিক, ওভারি- এ ধরনের অ্যাবডোমিনাল ক্যান্সার এবং ইউরোলজিক্যাল যেসব ক্যানসার আছে- যেমন প্রোস্টেট, কিডনি এবং ব্লাডার- এসব ক্ষেত্রে উপসর্গগুলো অনেকটা আড়ালেই থেকে যায়।

সাধারণভাবে এসব ক্যানসারের যেসব উপসর্গ দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছে, কয়েক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় ধরে পেটের ভেতরে অস্বস্তি,অনবরত ডায়রিয়া, সবসময় অসুস্থ বোধ করা, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত।

চিকিৎসকরা বলছেন, এসব উপসর্গের কোনো একটি তিন সপ্তাহ কিম্বা তার চেয়েও বেশি সময় স্থায়ী হলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

এছাড়াও আরও কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন- যেমন পেটে বাড়তি কোনো মাংসপিণ্ড বা লাম্প অথবা মেনোপোজের পরেও রক্ত যাওয়া, বিনা কারণে ওজন কমে যাওয়া- এসবও ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।

ফুসফুসের ক্যানসারের ক্ষেত্রে কিছু উপসর্গ রয়েছে, যেগুলোকে রোগীরা তেমন একটা গুরুত্ব দেয় না।

এমন উপসর্গগুলো হল- তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাশি (কোভিড ছাড়া), বারবার চেস্ট ইনফেকশন বা বুকে সংক্রমণ, কাশির সঙ্গে রক্ত, ক্লান্ত বোধ করা, শক্তি না পাওয়া কিম্বা সবসময় দুর্বল বোধ করা।

অনেক উপসর্গ বোঝার কোনো উপায় নেই। একারণে এসব লক্ষণের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া আরো বেশি জরুরি।

চিকিৎসকের মতে, ‘অস্পষ্ট লক্ষণগুলোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। যেমন কাশি যদি দুই তিন সপ্তাহ ধরে থাকে, অথবা বার বার ফিরে ফিরে সংক্রমণ হচ্ছে, তাহলে সেটা লাং ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।’

প্যাংক্রিয়াটিক ক্যানসার প্রাথমিক স্তরে ধরা পড়ার ঘটনা খুবই কম। অন্য কোনো কারণে সিটি স্ক্যান করার সময় হয়তো ধরা পড়ে, যখন এটি অ্যাডভান্সড স্টেজে চলে গেছে। তবে ক্যানসার, ব্লাডার ক্যানসার, লাং ক্যানসার একটু সতর্ক হলে আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কিছু ব্যাপার মেনে চললে ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকখানি কমানো যায়।

খাদ্যভ্যাস

ধূমপান বা মদ্যপান ছেড়ে দেয়া বা পরিমাণ কমিয়ে আনা। পান-সুপারি জর্দা, তামাকপাতা খাওয়া বন্ধ করা। চর্বিজাতীয় পদার্থ কম খাওয়া। সম্ভব হলে মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেয়া বা কমিয়ে দেয়া।

প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি, ফলমূল এবং আঁশজাতীয় খাবার খাওয়া। বিভিন্ন ধরনের সবুজ সবজি ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। পালং,মেথি ইত্যাদি আপনার খাদ্য তালিকায় প্রতিদিনই রাখতে পারেন। স্যুপ, রুটি-পরোটা এবং ডাল তৈরিতে এসব সবজি ব্যবহার করতে পারেন। তাজা সুবজ সবজি ক্যানসারের উপাদানগুলোর কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে সাহায্য করে।

এছাড়া খাদ্যাভাসে আদা, হলুদ, রসুন, টমেটো, পিপারমিন্ট, মাশরুম, শাকসবজি, ভিটামিন সি, ভেজষ উদ্ভিদ রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা।

ক্যানসার প্রতিরোধে ঘরোয়া মশলার ওপর জোর দিচ্ছেন গবেষকরা। সেইগুলো নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস করলেই ক্যানসার রোগ না হওয়ার সম্ভবনা থাকে না।

প্রতিদিন নিয়মিত কিছু ব্যায়াম করা যেমন-দৌড়ানো, সাইকেল চালনো, নাচ করা, হাঁটা। সপ্তাহে কমপক্ষে ২ দিন ভারী ব্যায়াম করতে হবে। পরিহার করতে হবে ধুমপান। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোসহ নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করতে হবে। ক্যানসার যেন না হয় সেজন্য মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

এমন আরও সংবাদ

Back to top button