নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকরা আসেন কেন

সবার নজর এখন আগামী বছরের প্রথম দিকে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে। শুধু জনগণ ও রাজনৈতিক দল নয়, এই নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ রয়েছে ভিনদেশি অনেক রাষ্ট্রেও। নির্বাচন কতটুকু অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, ফলাফল কী এবং জনগণের কাছে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর নির্ভর করবে— বাংলাদেশের সঙ্গে ওইসব দেশ কতটুকু ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। এ কারণেই নির্বাচনের সময়ে পর্যবেক্ষক পাঠিয়ে থাকে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী বিদেশি ওইসব সংস্থার মতামতের বিশ্বাসযোগ্যতা থাকায় তাদের দেওয়া রিপোর্টকে বিবেচনায় নিয়ে থাকে বিদেশি সরকার ও সংস্থাগুলো। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিদেশি পর্যবেক্ষক আসার বিষয়ে নীতিমালা আছে এবং যারা আসতে চান, তাদের সহায়তাও দেওয়া হয়ে থাকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক একজন কূটনীতিক বলেন, ‘একটি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল হলে, তাদের সুষ্ঠু নির্বাচন করার সক্ষমতার ওপর অনেক সময় সন্দেহ পোষণ করা হয়। এমন দুর্বল কাঠামোর রাষ্ট্রে নির্বাচন কতটুকু অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, সেটি প্রত্যক্ষভাবে দেখার জন্য জন্য বিদেশ থেকে পর্যবেক্ষরা এসে থাকেন।’
ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা হয় না। কারণ তাদের নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর সবার আস্থা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, এ ধরনের মতামত বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে আসলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ১৯৯১ সালের নির্বাচন থেকে বিদেশি পর্যবেক্ষক অংশগ্রহণের বিষয়টি শুরু হয়। এরপর ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচন, ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনেও বিদেশি পর্যবেক্ষকরা এসেছিলেন।
কারা এই বিদেশি পর্যবেক্ষক
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, কানাডা, মালয়েশিয়া. ভারতসহ বিভিন্ন দেশ পর্যবেক্ষক পাঠিয়ে থাকে। আবার ওআইসি, জাতিসংঘ, সার্ক বা কমনওয়েলথের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও বিভিন্ন দেশে পর্যবেক্ষক পাঠিয়ে থাকে। বাংলাদেশে আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনে এখনও পর্যন্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইইউ থেকে পর্যবেক্ষক পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছি। আশা করছি, ইইউ’র প্রাক-নির্বাচনি দলটি আগামী সেপ্টেম্বরে ঢাকা সফর করবে।’
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা
বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বাংলাদেশে কাজ করার অনুমোদন দিয়ে থাকে নির্বাচন কমিশন। এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালাও প্রণয়ন করা হয়েছে এবং মাঝে মাঝে সেটি আপডেট করা হয়। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ভিসা দেওয়া থেকে শুরু করে লজিস্টিক পরামর্শ ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে থাকে। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ইসিতে নিবন্ধন করতে হয় এবং নির্বাচন কমিশন নীতিমালা অনুযায়ী তারা কাজ করে থাকে।
এ বিষয়ে সাবেক একজন কূটনীতিক বলেন, ‘বাংলাদেশের যেহেতু সুষ্ঠু নির্বাচন করার সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে, সেজন্য আমাদের বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিষয়টি মেনে নিতে হবে। ভবিষ্যৎ বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিদেশি পর্যবেক্ষকরা যদি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে বলে মতামত দেন— তবে সেটি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করবে এবং বৈদেশিক সম্পর্ক স্থাপনে তা আরও সহায়ক হবে।’



