মহানগরীতে মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, জুয়া ও কিশোর গ্যাং কার্যক্রম দমনে বিশেষ ‘এস ড্রাইভ’ অভিযান পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। গত রোববার দিবাগত রাতে নগরীর ১৬টি থানা এলাকায় একযোগে পরিচালিত এ অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ১২ সদস্যসহ বিভিন্ন অপরাধে ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অস্ত্রসহ উদ্ধার করা হয়েছে ৪৬৯ পিস ইয়াবাও। গতকাল সোমবার সিএমপির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কোতোয়ালি থানা এলাকায় ১৩ জন, সদরঘাটে ৩ জন, চকবাজারে ৪ জন, বাকলিয়ায় ৩ জন, খুলশীতে ২ জন, বায়েজিদে ৮ জন, পাঁচলাইশে ৩ জন, চান্দগাঁওয়ে ৬ জন, পাহাড়তলীতে ১ জন, আকবরশাহে ২ জন, ডবলমুরিংয়ে ৫ জন, বন্দরে ১ জন, ইপিজেডে ৪ জন, পতেঙ্গায় ৮ জন এবং কর্ণফুলী এলাকা থেকেতে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে ছিনতাইকারী ৪১ জন, মাদক-সংক্রান্ত মামলায় ৫ জন, চাঁদাবাজ ৫ জন, জুয়াড়ি ২ জন এবং কিশোর গ্যাংয়ের ১২ সদস্য রয়েছেন। অভিযানে একটি দেশিয় এলজি, তিনটি ছোরা, শটগানের ১২টি কার্তুজ, পিস্তলের ১০ রাউন্ড গুলি, দুটি ছুরি, তিনটি দা ও একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, নগর পুলিশের উদ্যোগে ১৬টি থানা এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন অপরাধে ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে অস্ত্রসহ মাদকদ্রব্য। একযোগে অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্য হলো কোনো একটি স্থানে হানা দিলে যাতে অন্য স্থানে থাকা অপরাধীরা পালিয়ে যেতে না পারে। সে কারণে ওসি থেকে অতিরিক্ত কমিশনার পর্যন্ত সকল পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিশেষ এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, কয়েকদিন আগে একটি শিল্পগোষ্ঠীর চেয়ারম্যানের বাসভবন লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় নগরবাসীর মনে নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। মূলত তা দূর করতেই ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আগে থেকে অভিযানের ঘোষণা দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি পুলিশের এক ধরনের কৌশল। অপরাধীরা আগেই অভিযানের বিষয়ে জানলে তারা স্থান পরিবর্তন কিংবা নিজেদের মধ্যে নানাভাবে যোগাযোগ করবে। এতে পুলিশের পক্ষে তাদের সম্পর্কে নতুন তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে ট্র্যাক করার নতুন পথও উন্মুক্ত হবে। এ বিষয়ে যারা সমালোচনা করছেন বা ভুল বুঝেছেন আশা করি, তাদের কাছে এখন বিষয়টি ক্লিয়ার হবে।



